শ্রীধনঞ্জয় দাশ মজুমদার পুরাতত্ব বিশারদ, কবিরত্ন প্রণীত
সম্পাদনায় ড. শিশুতোষ সামন্ত ও ডা. দুলালকৃষ্ণ দাস
স্বর্গত প্রখ্যাত ঐতিহাসিক মাখনলাল রায়চৌধুরী এবং অন্যান্য প্রখ্যাত পাঠকগণের অনুরোধক্রমে 'বাংলা ও বাঙালীর ইতিহাস'-এর কলেবর আরও বৃদ্ধি করা হইল এবং তাঁহাদের নির্দেশ ও অনুরোধে পাল সম্রাটগণ এবং রাঢ়ের সামন্ত সেন-রাজগণ যে একই চন্দ্রবংশীয় ক্ষত্রিয় যযাতিনন্দন 'অনু'র অধস্তন সন্তান; তাঁরা যে অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, সুক্ষ ও পুণ্ড্রাদি পাঁচ পুত্রের নামে পাঁচটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজা 'বলি'র বংশধর; ঋগ্বেদে ১০, ১২, ১০ (৭) শ্লোকে বর্ণিত রাজপুত অর্থবোধক কালিঙ্গ বা কৈবর্ত ও ১০, ৬২, ১০ শ্লোকে বর্ণিত এবং বিষ্ণু ভক্তার্থে দাস, তাহাই বল্লাল সেনের সিতাহাটি তাম্রলিপি, ধর্মপালের খালিমপুর লিপি, রামচরিত ও মঞ্জুশ্রীমূলকল্পেই লিপিবদ্ধ আছে। এই সকল তথ্য ও আরও বহু তথ্য হইতে প্রমাণ করা হইয়াছে যে পাল সম্রাটগণ বলি বংশধর মহাভারত প্রসিদ্ধ সমুদ্রসেনের সমুদ্রবংশের নিষ্ঠাবান বিষ্ণুভক্ত, শিবপ্রণয়ী ও নিয়ত যজ্ঞকারী ক্ষত্রিয় সম্রাট এবং সেন রাজগণও একই বলিবংশধর মহাভারতপ্রসিদ্ধ রাঢ়ের কৌশিকীকচ্ছনিলয় রাজ্যের মহৌজার সন্তান ও পাল রাজগণের সামন্তরাজ ছিলেন। পাল রাজগণের বৌদ্ধত্বের কাহিনী যেমন মিথ্যা রাঢ়ের সেন রাজগণের জাতিতত্ত্বে বর্ণিত কায়স্থ, ব্রাহ্মণ ও বৈদ্যত্বের কাহিনীও তদ্রূপ মিথ্যা। বিজয় সেনের ১০২৯ খৃষ্টাব্দে জন্মের কহিনী গোপন করিয়া মিনহাজ বর্ণিত বল্লাল সেনের ১১২২ খৃষ্টাব্দের মৃত্যুর কাহিনীকে মিথ্যা সাব্যস্ত করিবার জন্য মিথ্যা দানসাগর ও অদ্ভুত সাগর লিখিত হয়। তাহাতে বল্লাল সেনের ১১৬০ খ্রিস্টাব্দ হইতে ১১৯০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্বের কাহিনী লিখিত হইয়াছিল। বর্তমানে বিজয় সেনের ১০২৯ খৃষ্টাব্দে জন্মের তারিখ বাহির হইতে তাঁহার ১৩১ বৎসর বয়সে বল্লাল সেনকে রাজ্যভার দেওয়ার কাহিনী মিথ্যা এবং সেনবংশের বঙ্গেশ্বর বা ভারতেশ্বর রূপে রাজত্বের কাহিনীও মিথ্যা বলিয়া প্রমাণ করা হইয়াছে। রামচরিত মতে বিজয় সেন রাঢ়ের নিদ্রাবলীর সামন্তরাজা ও রামপালের সেনাপতি ছিলেন। বাংলায় মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণ লিখিবার জন্য অনেকেই অনুরোধ করিয়াছিলেন বলিয়া এই অধ্যায়ে পরিবর্দ্ধিত করা হইয়াছে।
top of page
SKU: 9788197726897
₹600.00 Regular Price
₹480.00Sale Price
bottom of page